‘পশ্চিমা ঐক্যে চিড়’ পুতিনের কাজকে সহজ করে দেবে

সম্পাদকীয়
নিক প্যাটন ওয়ালশ
১২:০৬:২৪এএম, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩
বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রশ্নে ইউরোপকে বেশ এককাট্টা থাকতে দেখা গেছে

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমির পুতিন যেই মুহুর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তা সম্ভবত এসে গেছে! সত্যিই যদি তাই হয়, তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে কাবু করতে তার আর খুব বেশি কিছু করার দরকার পড়বে না। এমনকি চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে তিনি ড়ান্ত বিজয়ের দেখা পেয়ে গেলেও তাতে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

ইউক্রেনে শীত মৌসুম যত ঘনিয়ে আসছে, পুতিনের ঠোঁটের কোণে ঝিলিক দিয়ে উঠছে খুশির ঝলক। তুষার জমাট বাঁধার সঙ্গে সঙ্গে ঝিমিয়ে পড়া ফ্রন্টগুলো (যুদ্ধক্ষেত্র) উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করবে। ইতিমধ্যে শুরু করেছেও। এই সময়ে কিয়েভের মনোবলে বেশ খানিকটা চীড় ধরবে। গতবারের শীতকালিন দৃশ্যপট বিবেচনায় এই দাবির যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যাবে। এই বাস্তবতা যেহেতু ইউক্রেনের অজানা নয়, কাজেই ভেতরে ভেতরে এক ধরনের ভয়-আতঙ্ক পেয়ে বসবে ইউক্রেন সেনাদের। পুতিন ঠিক এই মহা সুযোগের অপেক্ষায় প্রহর গুণে এসেছেন এতদিন।

অনেকে যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন, রাশিয়া আর এই যুদ্ধে হারছে না। ইউক্রেনের যে সব অঞ্চল দখলে নিয়েছিল মস্কো, তাও বেহাত হওয়ার আশঙ্কা কম। অন্যভাবে বলতে গেলে, ইউক্রেনের বিজয় লাভের সম্ভাবনা কম নিশ্চিতভাবেই। যারা ধরনের কথা বলছেন, তাদের যুক্তি হলোÑইউরোপের দেশে দেশে নির্বাচনের মৌসুম চলছে। এবং এমনকি অটল মিত্র পোল্যান্ডের কৃষকরাও তাদের ইউক্রেনীয় প্রতিবেশীদের সাথে ঝগড়া করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশন সন্নিকটে। এসব কিছুকে ছাপিয়ে ইউক্রেনের জন্য বড় দুঃসংবাদ হলো, মার্কিন সীমান্ত অভিবাসন নীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে এক ধরনের লড়াই চলছে রিপাবলিকানদের। এই পটভমিতে গত বুধবার সন্ধ্যায় মার্কিন সিনেটে নেমে আসে বড় ধরনের স্থবিরতা। আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে ইউক্রেনের জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা প্যাকেজ আটকে গেছে দুই দলের মতবিরোধে। অচলাবস্থার অবসানে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।হীন পক্ষপাতমূলক রাজনীতিকরে কিয়েভের সাহায্যে বাগড়া না দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের কাছে আবেদন জানান তিনি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘ইতিহাস তাদের কঠোরভাবে বিচার করবে, যারা স্বাধীনতা লাভে সাহায্য করা রাস্তা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করবে, থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে সব শেষে তিনি এও বলেন, ‘আমরা পুতিনকে জিততে দিতে পারি না।তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এসব কথায় কাজ হবে না!

ইউক্রেনকে সহায়তার প্রশ্নে চলমান ঝামেলা মেটাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিøঙ্কেনের সঙ্গে সম্ভবত খোলামেলা কথা হয়েছে ব্রিটেনের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ক্যামেরনের। যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষেÑএমন বার্তা ওয়াশিংটনকে দেওয়া হবে সেটাই স্বাভাবিক। এর কারণ, রাশিয়াকে ঠেকাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে আসছে লন্ডনও।

সন্দেহ নেই, বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রশ্নে ইউরোপকে বেশ এককাট্টা থাকতে দেখা গেছে। একই উদ্দেশ্য অভিপ্রায় নিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে। ঐক্যে অটল থেকে ড়ান্ত ফলাফল অর্জনে মরিয়া হয়ে উঠতে দেখা গেছে। আবার নিয়ে যে ধরনের বিশৃঙ্খলা অনৈক্য দেখা যাচ্ছে সরকারগুলোর মধ্যে, তাও চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে, ইউরোপের সুরক্ষার প্রশ্নে, তথা ইউক্রেনকে সাহায্য করা-না করার বিষয়ে ওয়াশিংটনকে অনিশ্চয়তার মধ্য পড়ে যেতে দেখাটা যারপরনাই বিস্ময়কর।

লক্ষণীয় বিষয়, উদ্বিগ্ন রিপাবলিকানরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো সংঘাতে  (হোক তা ঘরে কিংবা বাইরে) জড়িয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই নাকি সাহায্য প্রদান অবিলম্বে বন্ধ করার কথা ভাবছে। এক্ষেত্রে পালটা যুক্তি আছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। তাদের বক্তব্য, এই সাহায্যের উদ্দেশ্য হল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে শক্তি