ঝিনাইদহে সাংবাদিকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য, অজ্ঞাত নারীকে খুঁজছে পুলিশ

বাংলাদেশ
এম বুরহান উদ্দীন, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
০৯:২৯:২৭এএম, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৩
নিহত সাংবাদিক সেলিম মিয়া । ছবি : জনতার ইশতেহার

দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার ঝিনাইদহ প্রতিনিধি আবু সেলিম মিয়ার (৫২) মৃত্যু রহস্যের জন্ম দিয়েছে। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন নাকি কেউ তাকে হত্যা করেছে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সদস্য আবু সেলিম মিয়া সদর উপজেলার হলিধানী গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। পুলিশ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেরিনা খাতুন (২৮) রিপা কর্মকার (২৩) নামের দুই নারীকে গ্রেফতার করেছে। 

মেরিনা খাতুন মাগুরার শালিখা উপজেলার সামিয়ারপাড়া গ্রামের মন্টু মন্ডলের মেয়ে। তিনি স্বামী পরিত্যক্তা। অন্যদিকে আরেক স্বামী পরিত্যক্তা রিপা কর্মকার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাতলামারী গ্রামের রবি কর্মকারের মেয়ে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই দুই নারী নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানার পরিচয় দেন। অপরদিকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরো এক নারীকে পুলিশ খুঁজছে। রহস্যজনক ওই নারী সেলিমের দুর্ঘটনার খবর মেরিনা রিপাকে প্রথম ফোন করে জানায়। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আবু সেলিম মিয়া ঝিনাইদহ শহরের হামদহ আল-ফালাহ হাসপাতালের সামনে এক নারীর সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। সময় মোটরসাইকেল আরোহী অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে আঘাত করে দ্রুত গতিতে চলে যায়। এরপর থেকে আবু সেলিম মিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে প্রচার করা হয়। তার স্বজনরাও বিষয়টি নিয়ে ছিল অন্ধকারে। 

সেলিমের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মেরিনা রিপার গতিবিধি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়। প্রথমে তারা নিজেদের ভুল ঠিকানায় পরিচয় দেন। পরে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে তারা সেলিমের হামদহ এলাকার ফ্ল্যাটের পাশাপাশি বসবাস করতেন এবং অজ্ঞাত এক নারীর ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে অজ্ঞান মুমূর্ষু অবস্থায় সেলিমকে হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানান। 

অজ্ঞাত ওই নারীর সঙ্গে সেলিমের কেন এবং কি নিয়ে বাদানুবাদ হলো তা নিয়ে রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন থাকার কথা কিন্তু সেলিমের শরীরের মাথার পেছনে আঘাত ব্যতিত আর কোনো ক্ষত চিহ্ন নেই বলে পুলিশ জানায়।

নিহতের জামাই ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, রাত সাড়ে টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে আলফালাহ হাসপাতাল এলাকায় যান তার শ্বশুর। তারা জানতে পারেন কাজ শেষে করে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে মাথায় আঘাত পান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাত ২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী মমতা বেগম জানান, তার স্বামীকে হত্যা করা হতে পারে। তিনি সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘাতকদের চিহ্নিত করার দাবি জানান।