কেএনএফের ৯ সদস্য আটক, অস্ত্র উদ্ধার

বাংলাদেশ
বান্দরবান প্রতিনিধি
০৯:০১:০৩পিএম, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪

বান্দরবানে পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ৯ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে দোপানিছড়াপাড়া এলাকায় সুংসুংপাড়া থেকে ৯ কেএনএ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়। এ সময় টহল দল অনুসন্ধান চালিয়ে ৯টি এলজি, ১৯টি এলজি কার্টিজ, দুটি মোবাইল ফোন এবং দুটি আইডি কার্ড উদ্ধার করে।

এর আগে, গত ২ এপ্রিল রাতে বান্দরবারনের রুমা শাখা সোনালী ব্যাংক ও আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে শতাধিক সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তারাবি নামাজের সময় মসজিদ থেকে ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকে ধরে নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে মারধর করে তারা। পরে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ সময় ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১০ পুলিশ ও চার আনসার সদস্যকে নিরস্ত্র করে ৮টি চাইনিজ অটোমেটিক রাইফেল, দুটি এসএমজি, চারটি শটগান ও ৪১৫ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। এর পরদিন থানচিতে আরও দুটি ব্যাংকে ডাকাতি হয়।

গত ৪ এপ্রিল রাতে অপহৃত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিনকে রুমা বাজার থেকে উদ্ধার করে র‍্যাব। এর পরই থানচি থানা থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনেন স্থানীয়রা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ গোলাগুলি চলে।

স্থানীয়রা বলছেন, থানচি থানার পাশে প্রথম গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পরে তা থানচি বাজারের কাছে চলে আসে। এ সময় কেএনএফ সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময় হয়। পুলিশ জানিয়েছে, থানায় হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে তারা প্রায় ৫০০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই ওইদিন মধ্যরাতে আলীকদমের ২৬ মাইল ডিম পাহাড় এলাকায় যৌথবাহিনীর চেক পোস্টে হামলা হয়। সবগুলো ঘটনার সঙ্গেই কেএনএফ জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরপর থেকেই পার্বত্য অঞ্চলে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। অভিযানের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল কেএনএফের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক চেওশিম বমকে বান্দরবানের বাসা থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরদিন বেথেল পাড়ায় (বম পাড়া) যৌথ অভিযানে সাতটি দেশীয় বন্দুক, ২০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ৩১ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী গ্রেফতার হন। এরপর ১০ এপ্রিল গ্রেফতার হন সংগঠনটির সহযোগী লাল লিয়ান সিয়াম বম। পরদিন গ্রেফতার হন আরও তিন সন্দেহভাজন।